যেখানেই মানবিক বিপর্যয় সেখানেই ছাত্রলীগ-এস এম জাকির হোসেন

0
425

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সেবায় মনিটরিং সেল চালু করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। শুক্রবার বিকেলে উখিয়া-টেকনাফের মাঝপথে টিভি টাওয়ারে ছাত্রলীগের উদ্যোগে এই মনিটরিং সেল গঠন করা হয়। সেলের উদ্ধোধন করেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একে এম এনামুল হক শামীম। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিথ ছিলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

শামীম বলেন, নিজ ভূমি থেকে বিতারিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা সারা বিশ্বে প্রশংসিত। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠন সাড়া দিয়েছেন। বিদেশী গণমাধ্যম শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন। আশ্রিত রোহিঙ্গারা তাদের কন্যা শিশুদের নাম ‘শেখ হাসিনা’ রাখছেন

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় রোহিঙ্গাদের মানবিক সেবা দিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কাজ করছেন। কোনো রোহিঙ্গা না খেয়ে মরবে না-এ লক্ষ্যে দলের পক্ষ থেকে মানবিক সেবা প্রদান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য ছয়শ শৌচাগার নির্মাণ করা হবে। এছাড়া প্রতিটি ক্যাম্পে দুই জন চিকিৎসক এবং ত্রাণ হিসেবে ওষুধও দলের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হবে। এ সময় সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া রোহিঙ্গাদের নির্ধারিত শরণার্থী ক্যাম্পে ফিরে যাওয়া আহবান জানান তিনি।

শামীম বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিএনপির ষড়যন্ত্র সফল না হওয়ায় তারা সস্তা রাজনীতি করছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি বাদে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সবাই সাড়া দিয়েছেন। যার যার সামর্থ অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন রাত দিন পরিশ্রম করছেন। তিনি বলেন, যতদিন রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে পাঠাতে না পারবো ততদিন তাদের জন্য যা যা করা দরকার আওয়ামী লীগ সরকার তা করবে।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন জানান ‘ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিট থেকে আসা ত্রাণসামগ্রী আরও সুষ্ঠুুভাবে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণের জন্য ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করা হয়েছে। ছাত্রলীগের কেউ ত্রাণ দিতে চাইলে এই সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই বাকী কাজ তারা করে দিবে। এছাড়া অসুস্থ্যদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে যেখানে নারী ও পুরুষ ডাক্তারের দুটি আলাদা টিম কাজ করছে। প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনী ঔষধও ওেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এছাড়াও, বিশুদ্ধ পানি পৌছে দেওয়া, নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ চারপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যাক নেতাকর্মী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে বলেও জানান জাকির।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, আশেক উল্লাহ রফিক, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ম. সাইফ উদ্দিন বাবু, কর্মসূচী ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন, সদস্য ইসমাঈল সাজ্জাদ, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসতিয়াক আহমেদ জয়, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল আলম তানিম, উখিয়া ছাত্রলীগের সভাপতি মকবুল হোসেন মিথুন প্রমূখ।