যে উপায়ে দূর করবেন ব্রণের ক্ষত!

0
498

ব্রণ নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। ব্রণ হয় না এমন লোক খুব কম আছে। এটা যদি সঠিক ব্যবস্থাপনা না করি, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষত দেখা যায়। ব্রণের চেয়ে বেশি কষ্ট দেয় ক্ষতগুলো। ব্রণের চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কেও বিভিন্ন মতবাদ আছে।

বলে রাখা ভালো, ব্রণ কেন হয় এর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে লোমকূপ, তার সঙ্গে অবস্থিত তৈলগ্রন্থির মুখে ত্রুটি, বয়োসন্ধিকালে এন্ডোজেন নামক হরমোনের আধিক্য, পি একনি নামক এক ধরনের জীবাণুর আক্রমণ ব্রণের কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়।

বংশগত প্রভাব, অত্যধিক মানসিক চাপে শরীরের ভেতর থেকে এন্ডোজেন নামক এক ধরনের নিঃসরণ বেড়ে গিয়ে ব্রণের সৃষ্টি করে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে মুখে ব্রণ কিংবা একনি দেখা দেয়। এ অবস্থায় উচ্চমাত্রার অ্যানড্রোজেনস ত্বকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল উৎপন্ন করে। এতে ত্বকের গ্রন্থিতে প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং ব্রণ দেখা দেয়।

সাধারণত দুই ধরনের ব্রণ দেখা যায়। ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস। লোমকূপের গোড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যে ব্রণ ওঠে তার মুখ কালচে দেখায়। আর ত্বকের সেবাসিয়াস গ্রন্থি বন্ধ হলে যে ব্রণ ওঠে সেটির মুখ দেখতে সাদা হয়।

কয়েক বছর আগেও ধারণা ছিল, বসন্তের মতো ব্রণের গর্ত ভালো হবে না, কিন্তু এখন ব্রণের মাধ্যমে সংঘটিত ত্বকের ক্ষত চিকিৎসায় ভালো হচ্ছে। ব্রণের গর্ত ও দাগের জন্য বর্তমানে রয়েছে সর্বাধুনিক মাইক্রোনিডলিং এবং পিআরপি চিকিৎসা। এর মাধ্যমে রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় তার হারানো লাবণ্য। এমনকি ক্ষত হয়ে গেলেও অনেক চিকিৎসা রয়েছে। ক্ষতগুলো সারানোর জন্য ডার্মাটোসার্জারি পদ্ধতি রয়েছে, লেজার রয়েছে, পিলিং রয়েছে, মেজোথেরাপি, পিআরপি—অনেক আধুনিক চিকিৎসা রয়েছে।

ব্রণে আক্রান্ত রোগীরা ইদানীং অতি বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে অ্যারোমা চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু আক্রান্ত রোগীরা অনেক দেরি করে আসেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে। তাই তাদের জন্য কথা হলো, ব্রণের ভালো চিকিৎসা পেতে হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তবে প্রথম কথা হলো প্রতিরোধ। যখন ব্রণ হবে, সুন্দর করে একটি ফেসওয়াশ দিয়ে এক থেকে দুবার মুখ ধোবে। অনেকে বারবার মুখ ধোয়। বেশি সাবান দিয়ে মুখ ধুলে সাবান থেকে ব্রণ হবে। দিনে এক থেকে দুবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোন। অন্য সময় ধুতে চাইলে স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ব্রণে কোনোরকম চাপাচাপি করা যাবে না। খোঁটাখুঁটি করলে চামড়ার ভেতরে সংক্রমণ হবে, বড় ক্ষত তৈরি করবে। ব্রণ খুব সমস্যা করলে আমরা বলি, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করে চিকিৎসা নিন। অনেক ভালো ভালো অ্যান্টিবায়োটিক আছে, সিনথেটিক ভিটামিন এ আছে, এগুলো দিই। এগুলো দিলে তৈলগ্রন্থিগুলো ছোট হয়ে আসে। ব্রণের ক্ষতিকর প্রভাব চলে যায়। তবে এতটুকু মনে রাখতে হবে, ধৈর্য ধরে লাগাতে হবে, দীর্ঘ মেয়াদে লাগাতে হবে।

অনেক শক্তিশালী চিকিৎসা আছে। খুব শক্তিশালী ব্রণও আমরা ব্যবস্থাপনা করতে পারি। তবে যাদের ক্ষত হয়ে গেছে, তাদের আরো কিছু চিকিৎসা আছে।

প্রথমে বলি মাইক্রোডার্মা এবরেশন নামে একটি চিকিৎসা আছে। যে পুঁজ আছে সেটিকে বের করে দেয়, কোনো ক্ষত না করে। এটি একটি ব্যবস্থাপনা। এরপর আছে পিআরপিমেজো থেরাপি। ক্ষতগুলো ঠিক করার জন্য কিছু ওষুধ দিয়ে দিই। খুব বড় ক্ষতও ঠিক করা যায়। শেষ পর্যন্ত যখন বড় ক্ষত ভালো হয়ে যায়, ছোট ছোট ক্ষতের জন্য ডার্মাব্রেশন করতে পারি। এর সঙ্গে লেজার ব্যবহার করতে পারি। তবে এত দূরে যাওয়ার দরকার নেই। প্রথমে প্রতিরোধের দিকে নজর দিতে হবে।

জেনে রাখা ভালো, কোনো একটি নির্দিষ্ট ওষুধ সব রোগীর জন্য ভালো নয়। প্রত্যেক রোগীর জন্য তার স্কিন টাইপ, ব্রণের ধরন ও কারণ নির্ণয় করে ব্রণের চিকিৎসা করতে হয়। আক্রান্ত স্থানে লাগানোর জন্য ভিটামিন-এ জাতীয় ক্রিম সাধারণত সহনশীল ও ভালো।