রুশ আগ্রাসনের ৬ মাস, কোন পথে ইউক্রেনের যুদ্ধ

0
8

ছয় মাস ধরে বড় ধরনের স্থল যুদ্ধ ইউরোপে ভয়াবহতা দেখিয়ে চলেছে। পশ্চিম সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েকশ’ মাইল দূরে মৃত্যু আর ধ্বংসের নিদারুণ যন্ত্রণার সাক্ষী ইউক্রেনের বিস্তৃত অঞ্চলের মানুষ। এই যুদ্ধ যেন সহিংসতা আর স্বাভাবিকতার সহাবস্থানকেই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে!

পরিখা আর গোলাবারুদের এই দ্বৈত যুদ্ধের বড় অংশ সংজ্ঞায়িত হচ্ছে আমেরিকান ও ইউরোপীয়দের রাজনৈতিক ইচ্ছায়।  তাদের মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানি ঘাটতি সহ্য করার মানসিকতাই আদতে ঠিক করে দেবে এই সংঘাতের পরবর্তী ধাপ কোথায় গিয়ে ঠেকবে!

কেউ জানে না কিভাবে এই লড়াই শেষ হবে।  রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভাষায়, ‘আমরা এখনও সিরিয়াসলি কিছু শুরু করিনি।’ অন্যদিকে নিজ দেশের প্রতিরোধকামী মানুষ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন পাওয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও ছাড় দিতে রাজি নন। দৃশ্যত তিনি একটি রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে খাটো করে দেখছেন এবং নিজ দেশের মানুষকে দখলদার শক্তির কাছে মাথা নত না করার আহ্বান জানিয়েছে

আসন্ন শীতে রুশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির মুখে ইউরোপ কী ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে? ক্রিমিয়ায় হামলার পর পুতিন কী যুদ্ধের তীব্রতা বাড়াবেন? আর জেলেনস্কি কী পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে অঙ্গীকার ধরে রাখতে সক্ষম হবেন?

পুতিন এই মুহূর্তে ইউক্রেনের ২০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছেন। পুরো ইউক্রেনকে ফের রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া স্পষ্টতই খুব সহজ হবে না। তবে এই সংঘাতের লাগাম টেনে ধরার ব্যাপারেও তিনি খুব একটা আগ্রহী বলেও মনে করার কোনও কারণ নেই।

খারাপ কিছুর জন্য প্রস্তুত ইউক্রেন

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে স্বাধীনতা লাভ করে ইউক্রেন। সোভিয়েত শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তির দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি বছর ২৪ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করে থাকে দেশটির মানুষ। তবে এবার রুশ আগ্রাসনের বাস্তবতায় স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে খারাপ কিছু ঘটার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

ইউক্রেনীয়দের মুক্তির এই দিনটিতে মস্কো ‘খারাপ, নিষ্ঠুর’ কিছু করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

২৪ আগস্ট ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের ছয় মাস পূরণ হচ্ছে। এই যুদ্ধে বহু ইউক্রেনীয় বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। উভয় পক্ষের হাজার হাজার সেনার মৃত্যু হয়েছে। নড়বড়ে হয়ে গেছে অর্থনীতি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইউক্রেনের স্বাধীনতা অর্জনের দিনটিতে রাশিয়া হয়তো একঝাঁক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে কিংবা দখলকৃত মারিউপোল শহরে ইউক্রেনীয় বন্দিদের প্রকাশ্যে প্রহসনের বিচার করতে পারে।

রুশ আগ্রাসনের ৬ মাস, কোন পথে ইউক্রেনের যুদ্ধজেলেনস্কি বলেছেন, রাজধানী কিয়েভ আক্রান্ত হলে বাড়তি কোনও সতর্কতার প্রস্তুতি নিচ্ছে না ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আক্রান্ত হলে অন্য যেকোনও দিনের মতোই প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

কিয়েভ এবং উত্তর ইউক্রেন থেকে রুশ বাহিনীকে হটিয়ে দেওয়ার প্রাথমিক কিছু সফলতার পর সেখানকার পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের ফের স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ভিড় বাড়ছে রাস্তার পাশের দোকানগুলোতেও।

যেসব এলাকায় জাতিগতভাবে ইউক্রেনীয়রা সংখ্যাগরিষ্ঠ সেসব এলাকা এখন অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল ও নিরাপদ।  ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রি জাগোরোডনিউক বলেন, ‘মূল হুমকি ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফোর্স রুশ সেনাবাহিনী যদি আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব এবং প্রভাব প্রতিষ্ঠা করে ফেলে। তবে আমরা তাদের থামানোর কৌশল শিখে ফেলেছি।’ অবশ্য যুদ্ধের কারণে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়া অর্থনীতি ইউক্রেনের প্রতিরোধের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস।